ডায়াবেটিস সারা জীবনের রোগ। এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় হয় না, নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। টাইপ-১ ডায়াবেটিসের চিকিৎসা পুরোটাই ইনসুলিননির্ভর। টাইপ-২ ডায়াবেটিস চিকিৎসারও একপর্যায়ে ইনসুলিন অপরিহার্য হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে একটা বড়সংখ্যক ডায়াবেটিসের রোগী ইনসুলিন নেওয়া অবস্থায় রোজা রাখেন। রোজায় দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকতে হয় বলে ডায়াবেটিস রোগীদের আলাদা সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। তাদের রোজা রাখতে বেশ কিছু নিয়মকানুন অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

কারণ, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে ও সময় মতো খাবার খেতে হয়। সেই সঙ্গে দিনের বিভিন্ন সময় তাদের ওষুধ নেওয়ার দরকার হতে পারে। ফলে সাহরি এবং ইফতারের মধ্যে দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকার প্রভাব পড়তে পারে তাদের শরীরে। পাশাপাশি রমজানে ইনসুলিন নিয়েও অনেক ডায়াবেটিক রোগী চিন্তায় পড়ে যান। তাই এ নিয়ে থাকা চাই পরিষ্কার ধারণা।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখলে ইনসুলিনের পরিমাণ ও সময়সূচি সমন্বয় করতে রোজার আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। যারা দুই বেলা প্রাকমিশ্রিত ইনসুলিন নিচ্ছেন, তাঁরা সকালের সমপরিমাণ ইনসুলিন ইফতারের সময় নেবেন। রাতের ইনসুলিনের ডোজ অর্ধেক কমিয়ে সাহ্রির সময় নেবেন। আর যারা স্বল্প সময়ে ক্রিয়াশীল (শর্ট অ্যাক্টিং) ইনসুলিন তিন বেলা খাওয়ার আগে নিচ্ছেন, তাঁদের দুপুরের ইনসুলিন রোজার সময় না নিলেও চলে। সকালের সমপরিমাণ ইনসুলিন ইফতারের সময় নেবেন। আর রাতে নেওয়া ইনসুলিন অর্ধেক মাত্রায় কমিয়ে সাহ্রির আগে নেবেন।

সাধারণত লং অ্যাক্টিং বা ব্যাসাল ইনসুলিন, যা রাতে একটি নির্দিষ্ট সময় নেওয়া হয়, তার সময় ও মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। ইফতারের আগে রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আবার ইফতারের দুই ঘণ্টা পর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করে যদি দেখা যায় মাত্রা অনেক বেশি, তবে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে হবে। আর যদি গ্লুকোজের মাত্রা কাক্সিক্ষত মাত্রার নিচের দিকে অবস্থান করে, তাহলে ইনসুলিন কমাতে হবে।

ডায়াবেটিসের সঙ্গে অন্য কোনো জটিলতা যেমন কিডনি-হার্টের সমস্যা, প্রেগনেন্সি, বার বার গ্লুকোজ কমে যাওয়া ইত্যাদি থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।